বিজিএমইএ'র আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে দ্রুতগতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ-কে দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত যেমন চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণে উন্নয়ন হলেও স্বল্পমেয়াদে কোনো খাতই তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই অর্থনীতিতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়ে যাবেন, যার ফলে দ্রুত যন্ত্রপাতি আমদানি ও শিল্প স্থাপন সম্ভব হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো জানান, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে।

বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। এতে রফতানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।

এছাড়া, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০–৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক।

এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের বাবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ আরো নেতারা।

আরও